Powered By Blogger

বুধবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৩

হুমায়ূন সাধুর আখড়া বাড়ি।


স্থানঃ নরসিংদি, খানা বাড়ি।

আমরা এয়ারপোর্ট থেকে রওনা হবো। না প্লেনে না, এয়ারপোর্ট ষ্টেশনে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। ট্রেন মাত্র আড়াই ঘন্টা লেট। অবশেষে ট্রেনে উঠলাম, ঘন্টা দেড়েক লাগলো। ওখান থেকে টেম্পু করে জেতে হবে। আমরা টেম্পু খুজতেছি, এমন সময় আমাদের সাথে যোগ দিল একটা ছেলে। ছেলেটা চারুকলাতে পরে। নামটা ঠিক মনে করতে পারছি না। টেম্পু ছাড়লো, চল্লিশ মিনিট পর আমরা খানাবাড়ি ট্রেন ষ্টেশন। রেল গেটে আমাদের নামিয়ে দিল। আবহাওয়াটা ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। এবার হাটতে হবে রেল লাইনের পাশ ধরে। দূরে রেল এর লাল সিগন্যালটা শুধু দেখা যাচ্ছে, রাত খুব বেশি হয়নি, কিন্তু গহীন গ্রাম এলাকা বলে কোথাও আলো চোখে পরছে না সিগন্যাল লাইট ছাড়া। কিছু দূর যেতেই আমরা একটা জায়গায় উৎসবের মত দেখতে পেলাম। বুঝলাম আমাদের গন্তব্য ওইটা।
ওখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষনের মধ্যে সাধুসঙ্গ আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন হলো হুমায়ুন সাধুর সিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার মাধ্যমে।
সিঙ্গায় ফুঁক দিচ্ছেন "হুমায়ুন শাহ" ।
ওই দিন হুমায়ুন সাধুর সিঙ্গায় ফুঁ দেখে একটা কথায় মনে হয়েছিল ইস্রাফিলে ফুঁতে দুনিয়া ধ্বংস হতে পারে। একটানা ২৫+ মিনিট ধরে সেই ফুঁ দিলো । আমাদের সব যাত্রা ক্লান্তি  হারিয়ে গেলো। আমার মনে হলো এটাই তাঁর সাধনা। না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। লালন মেলায় ও সিঙ্গায় ফুঁ দেন এই সাধক হুমায়ুন সাধু।
হুমায়ূন সাধু।
ঢাকা থেকে কিছু COMMON ফেস চোখে পড়লো। হুমায়ুন সাধু ছাড়া আরও ছিলেন - বলাই শাহ, সেফালী ফকিরানী, বাউল খাইরুল বাসার, কার্ত্তিক, আরও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাধক, বাউল, সূফী, বাউল মনা মানুষ।
কার্ত্তিক দা।
সেফালী ফকিরানী, কুষ্টিয়া।
যান্ত্রিক মগ্ন "সাধুসঙ্গে"
হুমায়ূন সাধুর আসন।
সারারাত সাধুসঙ্গ শেষে ঢাকা ফেরার ট্রেনের খোঁজে আমরা।
ষ্টেশনের নামটা বেশ মজার।

 সারারাত সাধুসঙ্গ কাটিয়ে এবার বাড়ি ফেরার পালা। সকাল ৯টার মধ্যে অফিস যেতে হবে। এবার ভোর বেলা রেললাইন ধরে হাঁটছি ষ্টেশনের দিকে। সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ট্রেন আসবে। ৭টা দশ বেজে গেলো ট্রেনের দেখা নাই। তারপর আমরা বাসে করে ঢাকা ফিরলাম। তারপর আবার মিশে গেলাম শহুরে যান্ত্রিকতায়। অফিসে ২ঘন্টা লেট। কি করবো - চেষ্টা করি ইচ্ছে গুলোর সাথে COMPROMISE না করতে।  

২টি মন্তব্য: